Web Academy

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য গুরুত্বপূর্র কিছু টিপস। যা আপনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে।

১। সময়ই হল ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে গুরুত্বপুর্ন মুলধনঃ একজন্ ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনার কাছে সব থেকে বড় এবং গুরুত্বপুর্ন মূলধন হল “সময়”। ফ্রি-ল্যান্সারদের সব সময় মনে রাখতে হবে, “আপনি আপনার সময় ক্লায়েন্ট  এর জন্য ব্যয় করছেন, অতএব ক্লায়েন্টকে অবশ্যই এর জন্য সঠিক এবং উপযুক্ত মুল্য প্রদান করতে হবে”।
এখানে বলে রাখা ভাল – কাজ পাওয়ার আগে অনেক ক্লায়েন্ট ডেমো দেখতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার পুর্ববর্তী কাজের লিঙ্কগুলো তাকে দেখান এবং বলুন যে আপনি এ ধরনের কাজ আগেও করেছেন। অর্থ প্রাপ্তি সুনিশ্চিত হবার পুর্বে কক্ষোনই আপনার কাজ ক্লায়েন্টকে পাঠাবেন না। এতে আপনার আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

২। নতুন কিছু শিখুন এবং কাজে পরিধিকে বাড়ানঃ ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনাকে মনে রাখতে হবে -আপনাকে সবকিছু সুন্দরভাবে সামলাতে (ম্যানেজ করতে) হবে। প্রজেক্টে বিড করা থেকে শুরু করে, কাজ শেষ করা অবধি সব কিছু আপনাকেই করতে হবে। ফ্রিলেন্সারদের কে সব সময় নতুন নতুন সমস্যার সম্মুক্ষীন হতে হয়। এটা অবশ্য খারাপ না… কারন আপনি সমস্যার সম্মুক্ষীন না হলে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন না। ছোট্ট একটি টিপস বলছি – যারা ওয়েব ডিজাইনের কাজ ভাল জানেন তারা প্রথমে যে কোন একটি সাইটে গিয়ে প্রজেক্ট এ বিড করুন। আপনি যদি কিছু মানসম্মত ডিজাইন ক্লায়েন্টকে দেখাতে পারেন তাহলে কাজ পেতে আপনার বেশী দিন লাগবে না। কয়েকটি কাজ করার পর যখন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন হবে তখন অন্যান্য সাইটে গিয়ে ঢুঁ  দিয়ে জেনে আসুন “আপনার কাজের মার্কেট ভ্যালু” কেমন। যদি অন্যান্য সাইটে কাজের মার্কেট ভ্যালু বেশী হয় তাহলে আপনি যে কোন সময় নতুন সাইটে চলে যেতে পারবেন। আর সাথে থাকবে আপনার পুর্বরতী কাজে অভিজ্ঞতা। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি নতুন কাজ পেয়ে যাবেন।

৩। কাজের কোয়ালিটি(মানের) দিকে লক্ষ্য রাখুনঃ শুধু টাকার কথা ভেবে যদি কাজের মানের কথা ভুলে যান তাহলে জেনে রাখুন ফ্রি-ল্যান্সিং এ আপনি খুব বেশী সুবিধা করতে পারবেন না !! হ্যা এটা সত্য যে আমাদের সবারই মুল লক্ষ্য হল টাকা উপার্জন করা, তবে তা হতে হবে ক্ল্যায়েন্ট কে ভাল মানের কাজ প্রদান করার মাধ্যমে। আপনি যদি ভাল মানের কাজ ক্লায়েন্টকে প্রদান করতে পারেন তাহলে সে খুশি মনে আপনাকে পে করবে। অনেক সময় ক্লায়েন্টকে খুশি করতে পারলে বোনাস পাবার সম্ভাবনাও থাকে।

৪। কাজ বুঝে বিড করুনঃ আপনি নিজেই আপনার নিজের বিচারক, অর্থ্যাৎ আপনি নিজে খুব ভাল করে জানেন যে – আপনি কোন কাজটি করতে পারবেন, আর কোনটি পারবেন না। অহেতুক পারবেন না , এমন কাজে বিড করে সময় নষ্ট না করাটাই শ্রেয়। কাজ শুরু করার পুর্বেই ক্লায়েন্ট এর সাথে ভাল মত কথা বলে কাজের ধরন সম্পর্কে বুঝে নিন। এতে করে কাজে ভুল হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। কাজ শুরুর পুর্বে আপনি নিজে নির্ধারন করে নিবেন- কাজটি শেষ করতে কত সময় লাগবে। আপনার কাছে যদি মনে হয় কাজটি শেষ করতে ১০ঘন্টা/২দিন লাগবে- তবে চেষ্টা করবেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন কাজটি শেষ হয়ে যায়। এর ফলে ক্লায়েন্টকে আপনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি ডেলীভারী দিতে পারবেন।

৫। ভাল ক্লায়েন্ট যোগাড় করুন এবং তাদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখুনঃ ইন্টারনেটে “ফেক” লোকের কোন অভাব নেই! এজন্য কাউকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় না 🙂 তাই আমি মনে করি ভাল একজন ক্লায়েন্ট পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার।
এজন্য একটি কাজ পাওয়ার পরে চেস্টা করুন আপনার ক্লায়েন্ট, “ফিক্সড একজন ক্লায়েন্ট” বানানোর জন্য। কক্ষোনই ক্লায়েন্টের কাছে মিথ্যা কথা বলবেন না, কিংবা মিথ্যা বলার চেস্টাও করবেন না। আপনার সমস্যাগুলো তার কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন  করুন, এবং তাকে বুঝিয়ে বলুন। কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখুন। এতে করে তার কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা আরও বাড়বে।

ক্লায়েন্টকে আপনার ম্যাসেঞ্জারে যেমন – Yahoo, GTalk, Skype এ রাখুন,যাতে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন।এভাবে যদি আপনি ৩/৪ জন “ফিক্সড ক্লায়েন্ট“ম্যানেজ করে ফেলতে পারেন তাহলে আপনাকে কক্ষোনই কাজের জন্য বিড করতে হবে না। তারাই নিয়মিত ভাবে আপনাকে কাজ দিবে। এটাই হল ফ্রিল্যেন্সিং এর সব থেকে বড় সিক্রেট।

Comments

comments

0 Responses on "ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য গুরুত্বপূর্র কিছু টিপস। যা আপনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে।"

Copyright © 2015 Web Academy. Sponsored By N.I BIZ SOFT